২৭শে নভেম্বর, ২০২২ ইং, রবিবার, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রাথমিক শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২২ সংশোধন : দ্রুত আসছে সুযোগ

প্রাথমিক শিক্ষক বদলি নীতিমালা সংশোধন আসছে

দৈনিক বিদ্যালয় ডেস্কঃ সুদীর্ঘ আড়াই বছর পর চালু হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষক বদলি কার্যক্রম। অনলাইন এই বদলি নির্দেশিকার কিছু শর্তের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। এতদিন পরে বদলী শুরু হলেও প্রাথমিকের হাজারো শিক্ষক বদলি নির্দেশিকার প্যাচে আবেদনই করতে সক্ষম হননি। 

তবে এবার আশার কথা হল, এই ভোগান্তি নিরসনে বদলী নির্দেশিকার কিছু অংশ পরিমার্জনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। যারফলে পূণরায় প্রাথমিক শিক্ষক বদলি ২০২২ এ আবেদনের সুযোগ পাবেন প্রাথমিকের প্রায় ৪ লাখ প্রাথমিক শিক্ষক।

এবিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে মোট ২৫ হাজার ৩৭২টি আবেদন জমা পড়েছে। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বদলি চলমান আছে। কিন্তু শিক্ষকদের সফটওয়্যার ও বদলি নির্দেশিকার  সে সমস্যা ছিল; তা সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এবিষয়ে জানা গেছে, শ্রীঘ্রই বদলি নির্দেশিকার ৩ দশমিক ৩ ধারা পরিমার্জন করে দেশের শিক্ষকদের ভোগান্তি দূর করা হবে। 

এখানে উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শিক্ষকদের অনলাইনে বদলি কার্যক্রমের পাইলটিং উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ.ক. ম মোজাম্মেল হক। পাইলটিং শেষে সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের উপজেলাভিত্তিক বদলির অনলাইন আবেদন শুরু হয় গত ১৫ সেপ্টেম্বর (২০২২) । যা শেষ হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। এরপর ও শর্ত জটিলতার কারণে বদলি আবেদন ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।

এরপর দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে সব শিক্ষক পদে মামলা চলমান রয়েছে তাদের বদলির আবেদন গ্রহণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। 

এবিষয়ে গত শনিবার বদলি সংক্রান্ত নতুন একটি নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর জানায়, বদলি কার্যক্রমে যে সকল শিক্ষক পদে মামলা আছে বা স্থগিতাদেশ হয়েছে এমন পদে বদলি করা হলে পরবর্তীতে আইনগত জটিলতার সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেজন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষক পদে মামলা চলমান বা স্থগিতাদেশ রয়েছে; এমন পদে বদলি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

এখানে আরও উল্লেখ্য, সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজার ৫৬৬। এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক আছেন প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার। এছাড়া নতুন করে আরও ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক শিক্ষকতায় যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু সহকারী শিক্ষক বদলি নির্দেশিকায় কিছু সংশোধন আসায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষকরা।
 
এবিষয়ে সরেজমিনে একাধিক সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১:৪০ অর্থাৎ যেসব স্কুলের ৪০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক আছেন, এমন শিক্ষকরা অনলাইনে বদলি আবেদন করতে পারেননি। এছাড়া অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২২ এর শর্তের কারণে অনেক শিক্ষক প্রয়োজন অনুযায়ী পছন্দের বিদ্যালয়ে পোস্টিং পাননি।
 
এর বাইরে বদলি নির্দেশিকার ৩ দশমিক ৩ ধারায় বলা হয়েছে যেসব বিদ্যালয়ে চার বা তার কম শিক্ষক কর্মরত আছেন, কিংবা শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:৪০ এর বেশি রয়েছে, সেসব বিদ্যালয় থেকে সাধারণভাবে শিক্ষক বদলি করা যাবে না। এই নীতিমালার এই অংশ পূরণ না করার ফলে বেশিরভাগ শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করতে পারিনি। 

উক্ত বদলী নির্দেশিকায় কোনো শিক্ষকের স্বামী-স্ত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী হলে তার স্বামী-স্ত্রী কর্মস্থলে বদলির সুযোগও রাখা হয়নি। যারফলে অনলাইন বদলির সুফল পাচ্ছেন না প্রাথমিক শিক্ষকরা।

এর আগের বদলি নির্দেশনায় প্রত্যেক উপজেলার বাইরে থেকে ২০ শতাংশ শিক্ষক বদলির সুযোগ থাকলেও ২০২২-এর নির্দেশিকায় করা হয়েছে ১০ শতাংশ। যে কারণে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক উপজেলার বাইরে থেকে বদলি হয়ে আসার সুযোগ হারিয়েছেন। এছাড়া এই বদলির নির্দেশিকার এসব শর্তের কারণে শতকরা ৮০% শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারছেন না বলে শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন।

এবিষয়ে সহকারী শিক্ষক নেতা সামছুদ্দিন মাসুদ দৈনিক বিদ্যালয়’কে বলেন, চলমাম অনলাইনে বদলি নির্দেশনার কারণে প্রাথমিক এর অনেক শিক্ষকের ভোগান্তি বেড়েছে। অনেক শিক্ষক আছেন, যারা ৪০-৫০ কি.মি. দূর থেকে এসে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। অথচ নীতিমালার কারণে বদলি হতে পারছে না। অনেক শিক্ষিকার শুধুমাত্র বদলি জটিলতার কারণে সংসার ভাঙ্গার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট জনেরা বলেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্তে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিরুৎসাহিত করা হবে। এছাড়া (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) একজন শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ৪০ শিক্ষার্থীর অনুপাতে একজন শিক্ষক; এমন বিধি-নিষেধের কারণে অনেক স্কুলেই ৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে চাইবেন না শিক্ষকরা; যার ফলে স্থানীয় বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেনগুলোতে শিক্ষার্থী বাড়বে। এই নীতিমালা দ্রুত অপসারণ করে শিক্ষক বান্ধব করার দাবি জানিয়েছেন একাধিক সহকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তা। 

এছাড়া প্রাথমিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ও অনেক টাকা খরচ করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষক বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর প্রধান লক্ষ্য তদবির ও ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করা। কিন্তুভ এক্ষেত্রে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যদি সুযোগ না পান, তবে সরকারের কোটি টাকা বিনিয়োগ বৃথা যাবে।

এবিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (পলিসি এবং অপারেশন) মনীষ চাকমার বক্তব্য হল, নির্দেশিকার কয়েকটি শর্তের কারণে অনেক শিক্ষক আবেদন করতে পারছেন না বলে আমাদের কাছে একাধিক অভিযোগ এসেছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় ধাপে আবারও সুযোগ দেওয়া হবে। সেখানে ১:৪০ এই নিয়মটি সংশোধন করা হবে। তবে তিনি শর্ত সাপেক্ষে বলেন, বদলি আবেদন চলবে শুধুমাত্র আন্তঃউপজেলা পর্যায়ে। উপজেলার বাহিরে নয়।

ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন