১৩ লক্ষাধিক প্রবাসীর কর্মসংস্থান লাভ

প্রবাস

বিদেশে জনশক্তি রফতানির ধারাবাহিকতায় চলতি বছর (বিদায়ী বছর) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রেকর্ডসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি জনশক্তি বিদেশে গেছে। এতে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে গত জানুয়ারি থেকে মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) পর্যন্ত ১৩ লক্ষাধিক নারী পুরুষ কর্মী ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে চাকরি লাভ করেছে। এর মধ্যে শুধু সৌদিতেই গেছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ গোটা বিশ্বে প্রায় সোয়া কোটি বাংলাদেশি নারী-পুরুষ কর্মী কঠোর পরিশ্রম করে প্রচুর রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছেন। প্রবাসী আয়েও আশার আলো দেখা দিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাস অর্থাৎ ডিসেম্বরের ২২ দিনে প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৫৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। সে হিসাবে দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স আসছে ৭ কোটি সাড়ে ১৩ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে, মাস শেষে প্রবাসী আয় ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২২ দিনের এই অঙ্ক আগের মাস নভেম্বর ও গত বছরের ডিসেম্বরের চেয়েও বেশি। চলতি বছরের নভেম্বরে প্রতিদিন এসেছিল ৬ কোটি ৪৩ ডলার। তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে।

জনশক্তি রফতানিতে অভূতপূর্ব সাফল্যের পেছনে প্রবাসে কর্মরত আত্নীয়-স্বজন এবং বায়রার সদস্যদের সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে। শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্য মুখী না হয়ে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে প্রচুর বাংলাদেশি কর্মী যাচ্ছে। তবে অদক্ষ কর্মীর চেয়ে উন্নত দেশগুলোতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও বেশি বেশি দক্ষ কর্মী প্রেরণে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। দেশের ১০৪টি টিটিসি (কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) এবং ৬টি আইএমটি (মেরিন টেকনোলজী) কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ৬০টি ট্রেডে প্রতি বছর ১ লাখ ২৫ হাজার নারী পুরুষ কর্মীকে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।

READ MORE  মার্চে চালু হচ্ছে নতুন বিমান, বিমানে কী কী সুবিধা পাচ্ছেন ?