২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং, রবিবার, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

হিসাবরক্ষণ অফিস গত ০৯।০৩।২০১৪ উন্নীত স্কেল পাওয়ার পর থেকে, নাকি প্রথম যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর চাকুরী কাল গণনা করবে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রনালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায়, হিসাবরক্ষণ অফিস কালক্ষেপণ করছে।

বিষয় : শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড প্রদানের পূর্বে উচ্চতর গ্রেডে বেতন ভাতা প্রদান প্রসঙ্গে

শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেলে বেতন কয়েক বছর বিলম্বিত

দৈনিক বিদ্যালয় ডেস্ক :: দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ, বিশেষ করে ২০০৫, ২০০৬, ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯, ২০১০ এ নিয়োগপ্রাপ্ত বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ১০ বছর পূর্তি ও ১৬ বছর চাকুরিকাল অতিবাহিত হওয়ার পরেও উচ্চতর বেতনগ্রেডে বেতন ভাতাদি পাচ্ছেন না।

কিন্তু এসময়ে আবার ১০ মে তারিখের পূর্বেই ১৩ তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার কথা বলেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। মূলতঃ শিক্ষকদের এই ১৩ তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন জারি হয় ২০২০ সালের ০৯ ফেব্রুয়ারী। শিক্ষকরা যারা ২০০৫ থেকে ১০ সালের মধ্যে নিয়োগ তাদের উচ্চতর স্কেলে বেতন ফিক্সেশন বেঁধে আছে অনেক দিন ধরে। তারা চাচ্ছেন আপাতত ১৩ তম গ্রেডে বেতন প্রদানের পূর্বে উচ্চতর স্কেলে পূর্ব উল্লেখিত সালে যোগদানকৃত শিক্ষকদের বেতন ফিক্সেশন হোক।

এবিষয়ে বিস্তারিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বরাবর লেখা এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে আরো স্পষ্ট হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গোলাম মোস্তফা, সহকারী শিক্ষক, ৭১ নং চাউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপজেলা শ্রীবরদী – জেলা শেরপুর লিখেছেনঃ

বরাবর, মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর,মিরপুর, সেকশন -২, ঢাকা।

বিষয়ঃ ১৩ তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের পূর্বে চাকুরীর প্রথম যোগদানের তারিখ থেকে ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর স্কেলে বেতন ভাতা প্রাপ্তির ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে।

জনাব, যথাবিহীত সম্মান পূর্বক নিবেদন এই যে, মহোদয় আপনিসহ আপনার নিয়ন্ত্রনাধীন কর্মকর্তাগণ প্রাথমিক শিক্ষা এবং প্রাথমিক শিক্ষকগণের কল্যাণে নিবেদিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা প্রাথমিক শিক্ষকগণ কৃতজ্ঞতার সাথে আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাসাধ্য মেনে চলছি, পালন করছি। স্যার, জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ এর গেজেট, অর্থ মন্ত্রনালয়, বাস্তবায়ন অনু বিভাগ এবং হিসাব মহা নিয়ন্ত্রক মহোদয়ের কার্যালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও বিধি সম্মত সুযোগ থাকার পরেও প্রায় সব ক’টি উপজেলার ২০০৫, ২০০৬, ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯, ২০১০ এ নিয়োগপ্রাপ্ত বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ১০ বছর পূর্তি ও ১৬ বছর চাকুরিকাল অতিবাহিত হওয়ার পরেও উচ্চতর বেতনগ্রেডে বেতন ভাতাদি পাচ্ছেন না, হিসাব রক্ষণ অফিস বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দিচ্ছেন না, তা না পাওয়ায়, প্রতি বছর নববর্ষ ভাতা, উৎসব ভাতা এবং বেতন ভাতা কম পেয়ে আসছে। হিসাবরক্ষণ অফিস গত ০৯।০৩।২০১৪ উন্নীত স্কেল পাওয়ার পর থেকে, নাকি প্রথম যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর চাকুরী কাল গণনা করবে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রনালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায়, হিসাবরক্ষণ অফিস কালক্ষেপণ করছে।

মহোদয়, গতকাল আপনি সদয় হয়ে আসছে ১০ মে ২০২১ খ্রিঃ তারিখের মধ্যে সহকারি শিক্ষকগণকে ১৩তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের কর্মপরিকল্পনা ঘোষনা করেছেন। যাতে করে শিক্ষকগনের মাঝে শান্তি বিরাজ করছে। মহোদয়, সহকারি শিক্ষকদের ১৩ তম গ্রেড নিশ্চিতকরণের পূর্বে ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তির ন্যায়সঙ্গত প্রাপ্য সুবিধাটি নিশ্চিত করা জরুরী। কেননা, ৯ ফেব্রুয়ারী-২০২০ পরে দেয় বর্ধিত বেতন/উচ্চতর স্কেল সুবিধাদি বাতিল করেই ১৩তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করতে হবে। অপরদিকে দীর্ঘ সময় বকেয়া হয়ে পড়ায়, সে বকেয়ার জন্যে পুনরায় বরাদ্দপত্র চাহিদা/প্রাপ্তির জন্য বকেয়া পড়ে থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট হিসাব রক্ষণ অফিসে বারবার ধর্ণা দিতে হবে।

মহোদয় তাই ১৩ তম গ্রেডে বেতন নির্ধারনের ব্যবস্থার পাশাপাশি পূর্বেই ১০ /১৬ বছর পূর্তির সুবিধা বঞ্চিতদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উচ্চতর গ্রেডে বেতন নির্ধারণের সুযোগদানসহ উন্নীত বেতনস্কেল ১৩ তমে বেতন নির্ধারণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে আপনার সানুগ্রহ সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপের আবেদন করছি।

অতএব, মহোদয় উপরোল্লিখিত বিষয় সদয় বিবেচনা করে ১০ ও ১৬ বছর পূর্তির ১ম ও ২য় উচ্চতর গ্রেডে বেতন নির্ধারণ বিষয়টি প্রত্যেকের প্রথম যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর করে ১৩তম উন্নীত গ্রেডে বেতন নির্ধারণ বিষয়ে আপনার একান্ত মর্জি হোন।

উক্ত শিক্ষক, সারাদেশে উচ্চতর গ্রেডে বেতন বঞ্চিত শিক্ষকদের পক্ষে যাতে মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিষয়টি নজরে আসে সে জন্য পোস্টটি শেয়ারের অনুরোধ ও জানিয়েছেন।

এছাড়া বিষয়টি নিয়ে নিয়ে দৈনিক বিদ্যালয়, শিক্ষা বিষয়ক অনলাইন পোর্টালের পক্ষ থেকে ২০০৯ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানকৃত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, “আমার উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার কথা ২০১৮ সালে। অথচ এখন ২০২১ সাল। এটা নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গেলে তারা একাউন্স অফিসে পাঠিয়ে দেন। এবার একাউন্স অফিসে গেলে তারা বিভিন্ন জটিলতার কথা বলেন, যা আমি অতটা বুঝি না।”

এছাড়া এবিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদের সাথে ‘দৈনিক বিদ্যালয়’ প্রতিনিধি কথা বললে তিনি বলেন, এই উচ্চতর গ্রেড জটিলতাটা অনেকদিন ধরে ঝুলে আছে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দ্রুত নিরসন পূর্বক ১৩তম গ্রেডের ফিক্সেশনের সাথে একসাথে ১০ ও ১৬ বছর পূর্তির উচ্চতর গ্রেডটি প্রদানের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

-ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন