২৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, বৃহস্পতিবার, ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

যে কারণে প্রাগশি সিনিয়র সচিবের চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ চায় শিক্ষকরা

দৈনিক বিদ্যালয়ঃ যে কারণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেনের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি তথা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ চান প্রাথমিক শিক্ষকরা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রালয়ের সিনিয়র সচিবের বর্তমান ও বিগত সময়ের বিশেষ শিক্ষা বান্ধবতার কারণে সারা দেশের প্রাথমিক শিক্ষকবৃন্দ তার চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ চায়। কী কারণে তার চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের পক্ষে শিক্ষকরা সে কথায় যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া যাক ‘চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ কী?’

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কীঃ

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হলো, চাকরিটা যখন সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি অনুযায়ী হয় তখন সেটাকে চুক্তিভিত্তিক চাকুরি বলা হয়। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবার পর আবার কিছু সময়ের জন্য চাকুরি চালিয়ে যাওয়াটাই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ।

চুক্তিভিত্তিক চাকরি নিয়ে বিস্তারিত নীতিমালা না থাকলেও সত্তর দশকে ও পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে।তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রনালয়ের (বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়) ১৯৭৫ সালের মে মাসের এক আদেশে বলা হয়, যেসব ক্ষেত্রে তুলনীয় যোগ্যতম ও দক্ষতা সম্পন্ন টেকনিক্যাল বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পাওয়া দুষ্কর, শুধু সেসব ক্ষেত্রই চুক্তির ভিত্তিতে অবসর গ্রহণের পরেও তাঁদের নিয়োগ করা যেতে পারে।

আকরাম আল হোসেন, সিনিয়র সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
তিনি ২০১৮ সালের ২৪ শে সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ ২০২০ সালের ৫ জুলাই বাংলাদেশ সরকার আকরাম আল হোসেনকে সিনিয়র সচিব হিসেব পদোন্নতি প্রদান করেন। তার আগে আড়াই বছর তিনি এ মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর চাকরির কার্যকাল শেষ হবে চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর।

বিগত ২ বছরে তিনি যে সকল বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন তার কিছু অংশ নিম্নে তুলে ধরা হলো-

১. শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন।

২. ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড (One Day One Word)কার্যক্রম চালু করণ।

৩. শিক্ষার্থীদের শতভাগ বাংলা ও ইংরেজিতে রিডিং দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করা।

৪. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি ৮৫ দিন করা।

৫. স্কুলের সময় কমিয়ে ০৯.০০ টা হতে ০৪.০০ টা পর্যন্ত (দুই শিফট স্কুল), ৯ টা থেকে ৩ টা ১৫ (এক শিফট স্কুল)।

৬. রূপালি ব্যাংক শিওর ক্যাশের মাধ্যমে (২২ নভেম্বর ২০১৮) শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বিতরন চুক্তি সম্পাদন করা।

৭. গণিত অলিম্পিয়াড প্রয়োগ কৌশলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গাণিতিক দক্ষতা বৃদ্ধির সম্ভাব্যতা যাচাই শীর্ষক প্রকল্প গ্রহন।

৮. উদ্ভাবন ও সেবা সহজীকরণ বিষয়ক ৬ দিনব্যপী কর্মশালা (৬ নভেম্বর ২০১৯)।

৯. ডিজিটাল স্মার্ট ক্লাসরুম এবং প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা।

১০. দপ্তরি কাম প্রহরী পদে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক জনবল নিয়োগের নীতিমালা সংশোধন (১২২৭)।

১১. প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের Annual Development Plan (ADP) গ্রহন।

১২. উক্ত মন্ত্রনালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর/সংস্থার মধ্যে বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি ২০১৯-২০ স্বাক্ষরিত করণ।

১৩. “সবুজ ও পরিচ্ছন্ন স্কুল” বিষয়ক “ইনোভেশন” টক উদ্ভাবনী বাংলাদেশ ২০৪১ অর্জনের লক্ষ্যে কর্ম সম্পাদন।

১৪. পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশ বান্ধব প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির শুভ উদ্ভোধন।

১৫. প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত পরিদর্শন ও পরিবীক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কিত বিষয়ে ৬৪ জেলার কর্মকর্তাদের সাথে মত বিনিময় সভা।

১৬. শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের ৬৮ তম সভা সম্পাদন।

১৭. শুদ্ধাচার কৌশল গ্রহন।

১৮. মিড ডে মিল ও বিস্কুট বিতরণ কর্মসূচি গ্রহন।

১৯. উপবৃত্তি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৫০ টাকায় রূপান্তর এবং কিডস অ্যালাউন্স ১০০০ টাকা প্রদান।

২০. বিভিন্ন জেলায় নিজে উপস্থিত হয়ে পাঠ পরিদর্শন।

২১. শিক্ষকদের ট্রেনিং সম্প্রসারণ (পিইডিপি-৪) এর আওতায়।

২২. উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের বিদেশে ট্রেনিং বা শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা গ্রহন।

২৩. সব পিটিআইতে সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদ সৃষ্টি।

২৪. স্কাউট সম্প্রসারণ।

২৬. মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহরোধে বিভিন্ন কর্মশালা।

২৭. শিক্ষা ও শিক্ষোপকরণ মেলা।

২৮. পিঠা উৎসব ও পৌষমেলা।

২৯. জাতীয় সংগীত চর্চা।

৩০. সকল শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মত বই পৌঁছানো।

৩১. উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও শিক্ষকদের বদলিজনীত সমস্যা নিরূপন।

৩২. প্রাক প্রাথমিক শ্রেণিকে ২ টি ক্লাসে রূপান্তর।এজন্য ২৪০০০ প্রাক প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ আগামী বছরেই প্রতি স্কুলে ১ জন করে শিক্ষক নিয়োগ হবে। এতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন গ্রহণ।এ জন্য গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশনের সাথে ৫৩.৪ মিলিয়ন ডলার চুক্তি।

৩৩. সংসদ টেলিভিশনে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পাদন।

৩৪. করোনাকালীন সময়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সেবা প্রদান।
৩৫.১৩ তম গ্রেডে উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণের আশ্বাস।
৩৫. প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ প্রদান বা সহকারী শিক্ষক পদ কে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রবেশের একমাত্র (এন্ট্রি) বা প্রবেশ দ্বার হিসেবে গণনা করা।
৩৬. এছাড়া শিক্ষকদের সাথে আন্তরিকতা প্রদর্শন করে সঠিক লক্ষে পৌছানো তথা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত কিরণের পক্ষে হাঁটছেন তিনি।

এ সকল কারণ ও মূলত শিক্ষা ও শিক্ষক বান্ধব সৎ ও যোগ্য অফিসার হওয়ার কারণে বাংলাদেশের সকল প্রাথমিক শিক্ষক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রালয়ের বর্তমান সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন এর চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়েছে।

-মোঃ সাইফুল আলম,
সহকারী শিক্ষক,
এ.পি.(এশা প্রিতুল) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,
কচুয়া, চাদঁপুর।

(ডিবি/এসএ)

ফেসবুকে লাইক দিন