২৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, বৃহস্পতিবার, ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

৪৫ এর বাধা নয় : শিক্ষানীতির আলোকে ১০০% পদোন্নতি হোক!

# প্রাথমিক শিক্ষার প্রাণপুরুষ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ জাকির হোসেন স্যার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সিনিয়র সচিব জনাব মোঃ আকরাম আল হোসেন স্যার এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মান্যবর মহাপরিচালক, অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত, জনাব সোহেল আহমেদ স্যার এর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

# শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। আর শিক্ষানীতি শিক্ষার মেরুদন্ড। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ৬ টি শিক্ষানীতি প্রণীত হলেও কোনটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার চাহিদা মেটাতে না পারায় আলোর মুখ দেখতে পারিনি।

# অবশেষে বহু জল্পনা-কল্পনা গবেষণার পর বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গঠিত হয় জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী শিক্ষা কমিশন। আর, এই কমিশনের নিরলস প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের ফসল “জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০।”

# শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর ২৫ নম্বর অধ্যায়ে শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার এর প্রশ্নে বলা হয়েছেঃ

“প্রাথমিক স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষকতায় আগ্রহী এবং সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে সকল স্তরের শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা পূর্বক পুনর্বিন্যাস করা হবে। যাতে তারা যথাযথ মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন।”

# ২৫নং অধ্যায়ে ০১ নম্বর অনুচ্ছেদেঃ
“শিক্ষকদের মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ক্ষেত্রে শিক্ষা নীতিতে বলা হয়েছে” “শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা শুধুমাত্র সুবিন্যাস্ত বাক্য গাথার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে প্রকৃত অর্থে তাদের সামাজিক মর্যাদা দেওয়া না হলে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল স্তরের শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা হবে।

# শিক্ষানীতিতে আরও বলা হয় যে, “শিক্ষার সকল স্তরের জন্য উপযুক্ত দুটি বিষয়ে অর্থাৎ মর্যাদা ও বেতন-ভাতাসহ সুযোগ সুবিধার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা সুপারিশ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতিনিধিত্ব সংবলিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হবে”।

# শিক্ষানীতির দ্বিতীয় অধ্যায়ে “প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা ” শিরোনামে “শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষকদের পদোন্নতি উপ অনুচ্ছেদে ৩০ নম্বর ধারায় বলা হয় ” “শিক্ষকদের স্তর এবং বেতন স্কেল যথোপযুক্ত বিন্যাস করে যথা সহকারী শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক তাদের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি করে শিক্ষকদের উৎসাহিত করা হবে।

“অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং জাতির ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষকদের গুরুত্ব ও মর্যাদা বিবেচনায় নিয়ে তাদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হবে।”

# প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর আলোকে বাংলাদেশের ৬৪০০০ সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে সহকারি শিক্ষকদের মধ্য হতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে১০০ ভাগ পদোন্নতি ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

# আবার শিক্ষানীতির ২৫ নম্বর অধ্যায়ের শিক্ষকদের মর্যাদা অধিকার শিরোনামের ৫ নম্বর উপধারায় বলাহয়

“মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষকদের শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পদায়ন করা হবে এবং তাদের পদোন্নতির সুযোগ থাকবে।”

# প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যেখানে ১৯৯৪ সালে জারিকৃত কালো আইন প্রয়োগ করে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক সহ সর্বস্তরের শিক্ষকদের পদোন্নতির দ্বার উন্মোচন করে দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। একই সাথে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

জাতীয় শিক্ষানীতির গাইডলাইন অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতিরভিত্তিসমূহঃ

# শিক্ষকদের মর্যাদা অধ্যায়ে ৩ নম্বর উপধারায় বলা হয়, “শিক্ষার সকল পর্যায়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা এবং শিক্ষার সকল পর্যায়ে তাদের শিক্ষাকতার মান বিবেচনায় আনা হবে। সে জন্য শিক্ষাকতার মান নির্ণয় করার পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। গৃহীত প্রশিক্ষণও শিক্ষার সর্বস্তরে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা হবে।”

# আবার দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৩২ নম্বর ধারায় বলা হয়, “শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের সঙ্গে পদোন্নতির যোগসুত্র স্থাপন করা আবশ্যক বলে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এবং প্রশিক্ষিত যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সরাসরি নিয়োগ এবং ত্বরান্বিত পদোন্নতির মাধ্যমে উচ্চতর পদ পূরনের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে পদ: উন্নীত করা হবে। তবে এর জন্য যথাযথ বিধি-বিধানও তৈরি করা হয়েছে।

# কয়েকটি অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এর সুবাদে জানতে পারলাম 26 বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি দ্বার খুলে দেয়া হচ্ছে কিন্তু কোন নতুনত্বনাই, 45 বছর তুলে দেওয়া হয় নাই, বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিয়েই পদোন্নতি নিতে হবে, তাহলে পদোন্নতির কি হলো? পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগকে কিভাবে পদোন্নতি বলবেন? সরাসরি নিয়োগ কে পদোন্নতি বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সিনিয়রিটির ভিত্তিতে দক্ষতার ভিত্তিতে যোগ্যতার ভিত্তিতে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে পদোন্নতি দিতে হবে তাহলে এটা পদোন্নতি বলা যাবে?

সবশেষে বলা যায়ঃ
১) শিক্ষানীতিতে জ্যেষ্ঠতা, মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণকে পদোন্নতির মূল ভিত্তি ধরা হয়েছে।

২) নির্বাচিত শিক্ষকদের শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পদায়ন ও পদোন্নতির সুযোগের কথা বলা হয়েছে।

# সুতরাং আমাদের দাবি সদ্য প্রণীত খসড়া নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিমালা ৪৫ বছরের বাধা দূর করে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে জ্যেষ্ঠতা অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ কে পদোন্নতি মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে 26 বছরের পদোন্নতিবঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির দ্বার খুলে দেয়ার জন্য আপনাদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

-লিপি খাতুন, প্রধান শিক্ষক, প্রতিভাময়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘলিয়া, খুলনা।

দ্রুতই খুলবে প্রাথমিক বিদ্যালয় : পরিপত্র জারি

ফেসবুকে লাইক দিন