২২শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং, শনিবার, ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

যেভাবে ১০ম গ্রেডসহ গেজেটেড কর্মকর্তা হল প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

বিদ্যালয় নিউজ ডেস্ক :: দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৫২ হাজার প্রধান শিক্ষককে ২য় শ্রেণির ও গেজেটেড কর্মকর্তার পদমর্যাদা দিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

৬ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর সমন্বিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন। এই রায়ের অন্তর্ভুক্ত রায় হল, হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে প্রধান শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিতে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার ক্ষমতা দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

১০ম গ্রেডে বেতন ও গেজেটেড হতে প্রাথমিক শিক্ষকদের পক্ষে চুড়ান্ত রায়

সামঞ্জস্যের অপূর্ণতায় পরিপূর্ণ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা

কোন ক্লাসে শিক্ষার্থীর বয়স কত হতে হবে : ১ম-১০ম শ্রেণি

যে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় হয়েছে, তাতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজসহ ৪৫ জন প্রধান শিক্ষক হাইকোর্টে ওই রিট দায়ের করেন।

এছাড়া আরও জানা যায়, এর আগে ২০১৯ সালের ২৫ আফেব্রুয়ারি তারিখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেড করা সহ গেজেটেড পদমর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। এছাড়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় ক্ষেত্রেই চাকরিতে প্রবেশকালীন সময়ে বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড করাসহ গেজেটেড পদমর্যাদা ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর করতে নির্দেশ দেয় আদালত।

এই রায় নিয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী সালাউদ্দিন দোলন জানান, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষকদের বেতন বিষয়ে এক যুগান্তকারী ঘোষণা দেন। যাতে প্রধানমন্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি দ্বিতীয় শ্রেণি করণ ও একই দিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

কিন্তু তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কৌশলে সরকারি প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল প্রবেশ পদে প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের ১১তম গ্রেড ও প্রশিক্ষণবিহীনদের জন্য ১২তম গ্রেড নির্ধারণ করে। এক্ষেত্রে তুলনামূলক ভাবে দেখা যায় নন-ক্যাডারভুক্ত দ্বিতীয় শ্রেণির পদে অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তারা জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ম গ্রেডে বেতন পেয়ে থাকেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষকদের পক্ষে রিট আবেদনকারী প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রধান শিক্ষকদের পক্ষ থেকে রিট দায়ের করি। সেই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন এবং সেই রুলের শুনানি শেষে হাইকোর্টের আপিল বিভাগ এ রায় প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, এরায়ের বিষয়ে শিক্ষকরা বলছেন, এরফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখানে আরেকটি বিষয় ও সাথে সাথে উল্লেখ্য যে, একই ডিগ্রিধারী অন্যান্য অধিদপ্তরে চাকরিরত ও প্রধান শিক্ষকদের তুলনায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বেতনের ব্যবধান অনেক বেশি। যা নিয়ে তারাও আন্দোলন রত। বর্তমানে তারা ও টাইমস্কেলহীনভাবে ১৩তম গ্রেডে চাকরি করছেন।

-ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন