প্রাথমিক শিক্ষক বদলী খুলছে! ৩ বছরের আর্তনাদে হৃদয় গললো কী মহাপরিচালকের?

দৈনিক বিদ্যালয় :: প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলী বন্ধ রেখেছেন বর্তমান মহাপরিচালক। অথচ শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। বদলীর অভাবে অনেক মহিলা শিক্ষকদের চাকুরী ছাড়তে হচ্ছে, স্বামী স্ত্রী সন্তানকে  থাকতে হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়, অনেক সন্তান তাদের অসহায় পিতামাতাকে দেখভাল করতে পারছেন না। বৃদ্ধ, রোগগ্রস্ত পিতামাতা তার শিক্ষক সন্তানের অনুপস্থিতির কারণে সেবাহীন অবস্থায় অসহায় জীবন যাপন করছেন। এমনি হৃদয় বিদারক অনেক পরিস্থিতিতে কষ্ট লাঘবে প্রাথমিকে বদলী চালু করার জন্য শিক্ষকদের শত অনুরোধ ও আবেদনেও হৃদয় গলেনি মহাপরিচালক মহোদয়ের, যিনি নিজেও একজন প্রাথমিক শিক্ষকের সন্তান।

অর্ধেক উপস্থিতি নিয়ে চলবে যে সব অফিস

আজ থেকে আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ

মানব কল্যাণের জন্যই আইন। সমাজের শিক্ষিত কিংবা অভিভাবক শ্রেণীরা এ আইনের প্রয়োগ করেন অধীনস্থদের অধিকার রক্ষা করতে কিংবা তাদের সুবিধা দিতে। কিন্তু প্রাথমিকের প্রায় ৪ লক্ষ শিক্ষকের অভিভাবক বর্তমান মহাপরিচালক মহোদয় বদলীর বিষয়ে শিক্ষকদের কোন কথাতেই কর্ণপাত করছেন না। নিজের সিদ্ধান্তে অটল,অনড়। কিন্তু সেটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত বা শিক্ষক কল্যাণকর?

বদলীতে ব্যাপক দুর্নীতি ও বাণিজ্য বন্ধ করতে তিনি আগের নিয়মে বদলী বন্ধ রেখে অনলাইন বদলী চালু করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও তা চালু করতে পারেন নি। কিংবা বিকল্প  কোন পথেও বদলীর ব্যবস্হা করেননি।

জানিনা এটা মহাপরিচালকের ব্যর্থতা, না পারিপার্শ্বিক সুযোগ সুবিধার অভাব। তা যাই হোক না কেন এতো দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকদের এই দুর্ভোগের জন্য দায়ী কে?

এতো বড় একটা ডিপার্টমেন্ট, এতো বড় মাপের একটি পদ মহাপরিচালক। আর এমন পদধারী একজন মানুষের হৃদয়ও অনেক বড়-দায়িত্বে ও কর্তব্যে, মনন ও মানসিকতায়, বিচার ও বিবেচনায়। অধীনস্থদের সমস্যায় তাঁর হৃদয় হবে বিগলিত। অধীনস্হদের নায্য পাওনা দিতে যিনি থাকবেন সদা জাগ্রত। তাঁর সৃজনশীল কল্যাণকামী চিন্তা ও কর্মে থাকবে অধীনস্থদের কল্যানের প্রতিচ্ছবি।

READ MORE  শিক্ষাগুরুর মর্যাদা কতদুর?

অথচ অনলাইন বদলীর ব্যর্থ স্বপ্নে এতোটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও, বার বার উদ্বোধনের তাং দিয়েও তা করতে না পারার ব্যর্থতায় কলঙ্কিত হওয়ার পরও বর্তমান মহাপরিচালক মহোদয় সময় ক্ষেপন করেই চলছেন বদলী চালু করার বিষয়ে।

আর কাল ক্ষেপন নয়। মহাপরিচালক সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আকুল আবেদন “আপনারা একটু সদয় হোন শিক্ষকদের প্রতি। সময়ের প্রয়োজনে সামর্থ্য অনুযায়ী ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিন শিক্ষা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী কল্যাণে।”

অতি সত্বর বদলী চালু হোক, শিক্ষকদের দুর্ভোগ দুর করে ৪ লক্ষ শিক্ষকের দোয়া ও আল্লাহর অনুগ্রহের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার মূল ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষাকে আরো এগিয়ে নিতে আসুন সবাই একতাবদ্ধ হই। নয়তো কষ্ট বিদগ্ধ লক্ষ মনের অনিচ্ছাকৃত অভিশাপ একটু হলেও স্পর্শ করবেই বিধাতার অমোঘ বিধানে সময়ের কোন এক লগ্নে, নয়তো পরপারে।

-এম ওয়াদুদ ফাররোখ, (ডবল এমএ, সি-ইন-এড, বিএড), সহকারী শিক্ষক, জিয়াপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট ও সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, ক্ষেতলাল উপজেলা শাখা, জয়পুরহাট।

Leave a Comment