২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং, শনিবার, ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

৬ বছর স্কুল না করে বেতন তুললেও বিভাগীয় মামলায় চাকুরী যায়নি প্রধান শিক্ষিকার!

দৈনিক বিদ্যালয় ডেস্ক :: হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটের বৈরাগীপুঞ্জি নামক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাসহ ৩ সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। জানাগেছে, প্রধান শিক্ষকের নাম আমেনা খাতুন।

এবিষয়ে এক বিভাগীয় তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। তাত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রধান শিক্ষিকার দুই বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়া ত জন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্ত হচ্ছে। তবে ৬ বছর স্কুল না করেও ২ বছরের বেতন বৃদ্ধি বন্ধ ছাড়া অন্য কোন ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে কাজে যোগদানের অনুমতি দেয় বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

জানাগেছে, উক্ত প্রধান শিক্ষক আমেনা খাতুন দীর্ঘ ৬ বছর ধরে বৈরাগীপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে নামমাত্র কাগজে কলমে দায়িত্ব পালন করলেও বিদ্যালয়ে ছিলেন অনুপস্থিত। কিন্তু তিনি বেতন ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন নিয়মিত।

এছাড়া স্কুলের অন্য ৩ সহকারী শিক্ষকও বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থেকে দায়িত্বে অবহেলা করে আসছিলেন। তারাও বিদ্যালয়ে না যেয়ে অন্য লোক দিয়ে বেগার খাটিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছিলেন।

কবে শুরু হবে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলী জানালেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

এসএমসির সভাপতি হাত থেঁতলে দিয়েছে প্রধান শিক্ষককের : ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষকরা

স্থানীয় উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে চুক্তি করে বছরের পর বছর এ অনিয়ম চালিয়ে আসছিলেন বলে জানা যায়। উক্ত বিষয়টি স্থানীয় অভিভাবকরা বিষয়টি লিখিতভাবে সিলেট বিভাগীয় পরিচালককে জানালে অভিযোগের তদন্ত করা হয়। সত্যতা পেয়ে আমেনা বেগমের বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। এ মামলায় তার দুই বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কেঁটে নিতে বলা হয়। এছাড়া অভিযুক্ত বাকী ৩ সহকারী শিক্ষক যাদের নাম আজাদ, সীমা দেব (পূর্ণ নাম জানা যায়নি) দের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানায় হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমীরুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অন্য ৩জন সহকারী শিক্ষকদের অনিয়মের ব্যাপারেও আমরা তদন্ত করছি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই গুরু পাপে লঘু শাস্তির বিষয়টি শিক্ষকদের মধ্যে হাঁসি-কৌতুকের বিষয়ে পরিনত হয়েছে। এবং এটা থাকে অনেক শিক্ষক স্কুল না করায় অনুপ্রাণিত হতে পারে ধারণা সচেতন জনের। অনেকে বলছেন ৬ বছর স্কুল না করলে তাদের চাকুরী থাকে কিভাবে!

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন